ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম (Wireless Communication System)

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম (Wireless Communication System) 2022

১৯০১ সালে ইতালিয়ান পদার্থবিদ মার্কনী জাহাজ থেকে সমুদ্র উপকূলে মোর্শ কোড ব্যবহার করে সর্বপ্রথম ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। আধুনিক ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম ও পুরাতন ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের মৌলিক ধারণা একই কিন্তু আধুনিক ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের দক্ষতা অনেক বেশি সিস্টেমের দক্ষতা অনেক ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন শব্দের অর্থ হল তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা।

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম (Wireless Communication System) 2022

দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে কোন রূপ ফিজিক্যাল কানেকশন বা ক্যাবল ছাড়াই ডেটা আদান প্রদান করার পদ্ধতিকে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন বলা হয়।

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমে মূলতঃ কোন কমিউনিকেশন মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ এখানে তার বা ক্যাবল এর সংযোগ স্থাপনের জন্য অতিরিক্ত কষ্ট ও খরচ করতে হয় না। তবে কমিউনিকেশন যন্ত্রপাতিসমূহ ভিন্নতর হয় যা তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ করতে সক্ষম হতে পারে। এই পদ্ধতির আরেকটি বড় খরচ হল লাইসেন্সিং ফি। এই লাইসেন্সিং ফি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারকে দিয়ে দিতে হয়।

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের যন্ত্রপাতির একটি সাধারণ উপাদান হলো অ্যান্টেনা। বিভিন্ন ফ্রিকুয়েন্সিতে বিভিন্ন রকম অ্যান্টেনার ব্যবহার করতে হয়। এই সিস্টেমের সাহায্যে বিশ্বের যে কোন প্রান্তে অবস্থান করে একে অন্যের সাথে বিভিন্ন প্রকার যোগাযোগ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। যেমন- কথা বলা, টেক্সট ম্যাসেজিং, চ্যাটিং ইত্যাদি।

সাধারণত নিম্নলিখিত মাধ্যমে ওয়ারলেস কমিউনিকেশন সম্পন্ন হয়।

  1. রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি কমিউনিকেশন।
  2. মাইক্রোওয়েব কমিউনিকেশন। যেমন- শর্ট রেঞ্জ কমিউনিকেশন।
  3. ইনফ্রারেড শর্ট রেঞ্জ কমিউনিকেশন। যেমন-রিমোট কন্ট্রোল।
একটি ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমঃ ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম (Wireless Communication System)
চিত্র: একটি ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের ব্যবহারঃ

বর্তমান যুগই হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম এর ব্যবহার ও কমিউনিকেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের উল্লেখযোগ্য ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।

মোবাইল ফোনঃ

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের সবেচেয়ে বেশি ব্যবহার পরিলক্ষিত হয় মোবাই সিস্টেমে। এই ধরনের মোবাইল নেটওয়ার্কসমূহ সাধারণত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। তবে নি এই প্রযুক্তির ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ওয়্যারলেস ডেটা যোগাযোগঃ

মোবাইল কম্পিউটিং এর অন্যতম উপাদান হল ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন। বর্তমান সময়ে আমরা ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ওয়্যারলেস। ব্যবহার করে থাকি। যেমন- ওয়াই-ফাই (Wi-Fi)।

সিকিউরিটি সিস্টেম :

বাড়ি কিংবা অফিস ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তারের (ক্যাবল) বদলে ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়।

টেলিভিশন সিস্টেম :

বর্তমান সময়ের প্রায় সব ধরনের টেলিফোনগুলোই ওয়্যারলেস (সাধারণত ইনফ্রারেড রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এখন রেডিও ওয়েভও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ওয়্যারলেস শক্তি প্রেরণ :

আমরা ইলেকট্রিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে শক্তি প্রেরণ করতেও ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকি।

কম্পিউটার :

তথ্য ধারণ ও প্রেরণ করতে আমরা বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার ইন্টারফেস ও ডিভাইস ব্যবহার করে থাকি। যেমন- ব্লুটুথ।

ওয়্যারলেস প্রযুক্তির প্রয়োগঃ

আধুনিক যুগে ওয়্যারলেস প্রযুক্তির প্রয়োগ প্রায় কম্পিউনিকেশনের সর্বক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। তার মধ্যে উল্লেখ্য ক্ষেত্রগুলো নিম্নরূপঃ-

  • মোবাইল টেলিফোন।
  • ওয়্যারলেস ডেটা কমিউনিকেশন। যেমন- ওয়াই-ফাই (Wi-Fi), সেলুলার ডেটা সার্ভিস (GSM, CDM GPRS, EDGE), মোবাইল স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ইত্যাদি।
  • ওয়্যারলেস এনার্জি ট্রান্সফার।
  • কম্পিউটার ইন্টারফেস ডিভাইস।
  • কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস। যেমন-টেলিভিশন, ডিভিডি ইত্যাদি।

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা বা সুবিধাঃ

বর্তমান সময়ে ডেটা কমিউনিকেশন সবচেয়ে বড় বাধা হল ভৌগলিক অবস্থান। ডেটাকে বড় বড় বিল্ডিং, পাহার, মরুভূমি বা বিশাল বনভূমি, সাগর, মহাসাগর দিয়ে প্রবাহিত হতে হয়। এ ধরনের প্রতিকূলতায় মাধ্যম হিসেবে ক্যাবল বা তার ব্যবহার করা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা বেশ কঠিন।

তাছাড়া জনবহুল শহরে ক্যাবল বা তারের মাধ্যমে সংযোগ দেয়া বেশ কঠিন ও বিরক্তিকর কাজ। এ রকম প্রতিকূলতায় ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম বেশ সহজ ও উপযোগী। এ ধরনের সিস্টেম এক ধরনের স্বাধীনতাও প্রদান করে।

এরপরও নিম্নলিখিত কারণে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের প্রয়োজনীতা বা গুরুত্ব অপরিসীম। যথাঃ

  • ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দূর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
  • টেলিফোন কন্ট্রোল ও ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেমে ব্যবহার করা যায়।
  • ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মহাকাশে সফল অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
  • ইনফ্রারেড ও আল্ট্রাসনিক রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেমে ব্যবহার করা যায়।
  • কর্ডলেস টেলিফোনের সাথে অল্প দূরত্বে যোগাযোগ করা যায়।
  • স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেল দেখা যায় ।
  • যে কোন সাইট থেকে কোন ভিডিও সম্প্রচার করার জন্যও ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়। বর্তমান সময়ে যে কোন চলমান পরিবহণ পর্যবেক্ষণ এবং তাদের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
  • সেলুলার টেলিফোন বা মোবাইল ফোন ও পেজার সিস্টেমে ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার অকল্পনীয় এ ধরনের সিস্টেমে ক্যাবল বা তার স্থাপন করা হয় না বলে খরচ কম হয়।
  • ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে নয়েজের প্রভাব কম থাকে।
ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমকে সাধারণত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
Photo: ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের প্রকারভেদ

■ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের প্রকারভেদঃ

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমকে সাধারণত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

  1. ওয়্যারলেস প্যান (Wireless Personal Area Network-WPAN)
  2. ওয়্যারলেস ল্যান (Wireless Local Area Network -WLAN)
  3. ওয়্যারলেস ম্যান (Wireless Metropolitan Area Network WMAN) ও
  4. ওয়্যারলেস ওয়ান (Wireless Wide Area Network – WWAN)

ওয়্যারলেস প্যান (Wireless PAN-WPAN) :

অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বে অবস্থিত বিভিন্ন ডিভাইসগুলোর তারবিহীন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে ওয়্যারলেস পার্সোন্যাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা WPAN বলে। এক্ষেত্রে কম দূরত্ব বলতে বুঝায় একজন ব্যক্তির হাতের নাগালে অবস্থিত স্থান। মোবাইল ফোন, পিডিএ, নোটবুক, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, মাউস, লাইট প্রজেক্টর, হ্যান্ডসেট ইত্যাদি ডিভাইস নিয়ে গঠিত কমিউনিকেশন ব্যবস্থাই হলো WPAN ও WPAN তৈরিতে Bluetooth প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।

ওয়্যারলেস ল্যান (Wireless LAN-WLAN) :

একটি নির্দিষ্ট এরিয়ার মধ্যে অবস্থিত দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে তৈরিকৃত তারবিহীন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে বলা হয় ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা WLAN । এটি ব্যবহারকারীকে একটি নির্দিষ্ট পরিসরের স্থানের মধ্যে চলমান অবস্থায় নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকার সুযোগ প্রদান করে। সাধারণত WLAN সংযোগের জন্য সংযোগকারী ডিভাইসগুলোতে ওয়াই-ফাই (Wi-Fi)প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় । বর্তমানে ছোট প্রতিষ্ঠান এবং বাসায় ওয়্যারলেস ল্যান অত্যন্ত জনপ্রিয়।

ওয়্যারলেস ম্যান (Wireless MAN-WMAN) :

ওয়্যারলেস মেট্রোপলিটন এরয়িা নেটওয়ার্ক বা WMAN হল এক ধরনের তারহীন নেটওয়ার্ক যা বেশ কিছু ওয়্যারলেস ল্যান এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এটি WLAN এর বড়, যা সাধারণত শহরের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে বিস্তৃত হয়। WMAN গঠন করার সাধারণত ওয়াইম্যাক্স (WiMAX) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

ওয়্যারলেস ওয়ান (Wireless WAN-WWAN):

ওয়্যারলেস ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক WLAN বা WWAN হলো এক ধরনের তারহীন নেটওয়ার্ক যা বৃহৎ বিস্তৃত অঞ্চলের মধ্যে নেটওয়ার্ক স্থাপন করে। সাধারণত একাধিক ছে WMAN নিয়ে এই নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। এই ধরনের নেটওয়ার্ক প্রধানত বৃহৎ প্রতিষ্ঠান বা পাবলিক ইন্টারে অ্যাকসেস সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়।

To Download “Wireless Communication System” PFD BOOK in Bangla Follow Below button;

সকল প্রযুক্তি বিষয়ক পোস্ট দেখুন; 

Go To Home:

About ibangla24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *