data-communication-systems-and-channels :ডেটা কমিউনিকেশনের মাধ্যম ও চ্যানেল বিস্তারিত

ডেটা কমিউনিকেশনের মাধ্যম ও চ্যানেল বিস্তারিত : ২০২২

প্রিয় বন্ধুরা আজকের বিষয় হচ্ছেঃ ডেটা কমিউনিকেশনের মাধ্যম ও চ্যানেল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। তো চলুন শুরু করিঃ- প্রেরণ প্রান্ত এবং দূরবর্তী গ্রহণ প্রান্তের মধ্যে ডেটা আদান প্রদানের জন্য প্রয়োজন উভয় প্রান্তের মধ্যে সংযোগ। সংযোগকে সাধারণত চ্যানেল বলা হয়।

এই চ্যানেল বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন প্রকার মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। ট্রান্সমিশন রেট 10 Mbps থেকে 1 Gbps চলাচলের এই মাধ্যমগুলোকেই ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম বলা হয়। যেমন- ক্যাবল বা তার, সাধারণ টেলিফোন লাইন, বেতার তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি।

Table of Contents

ডেটা কমিউনিকেশনের মাধ্যম ও চ্যানেল বিস্তারিত:

সাধারণত ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম (২) দুই ধরণের হয়ে থাকে। যথাঃ-

  1. তার মাধ্যম (Wired) বা ক্যাবল মাধ্যম : ক্যাবল, টেলিফোন, ফাইবার অপটিক ইত্যাদি। ও
  2. তারবিহীন বা বেতার মাধ্যম (Wireless) : বেতার তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েব ও ইনফ্রারেড ।

তার মাধ্যম বা ক্যাবল মাধ্যম (Wired or Cable Media)

ডেটা কমিউনিকেশনে ক্যাবল বা তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ক্যাবল বা তার মাধ্যমে ফিজিক্যাল মিডিয়াম বা ব্যবহৃত হয়। সাধারণত স্বল্প পরিসরের নেটওয়ার্কিং যেমন LAN (Local Area Network) ডেটা স্থানান্তরে। মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। তবে বৃহত্তর পরিসরে যেমন- WAN (Wide Area Network) -এর হাইস্পিড কমিউনিকেশনেও ক্যাবলের ব্যবহার আছে। বিভিন্ন ধরনের ক্যাবল আছে। তবে ডেটা কমিউনিকেশনে তিন ধরনের ক্যাবল হচ্ছে –

  1. টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Twisted pair cable)
  2. কো-এক্সিয়াল ক্যাবল (Coaxial cable) ও
  3. ফাইবার অপটিক ক্যাবল (Fiber optic cable)

1. টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Twisted pair cable):

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Twisted pair cable) দুটি পরিবাহী তামার তারকে পরস্পর সুষমভাবে পেঁচিয়ে টুইস্টেড পেয়ার তৈরি করা হয়। অর্থাৎ দুটি পরিবাহী তামার তার পরস্পর সুষমভাবে পেঁচানো থাকলে তাকে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল বলে।

পেঁচানো পরিবাহী তার দুটিকে পৃথক রাখার জন্য অপরিবাহী পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ধরনের ক্যাবলে সাধারণত মোট ৪ জোড়া ব্যবহৃত হয়। প্রতি জোড়া তারের মধ্যে একটি কমন রংয়ের (সাদা) তার থাকে। অপর তারগুলো হয় ভিন্ন রংয়ের। তার সমূহ সংযোজনের সময় ১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮ নম্বরের ভিত্তিতে সংযোগ দিতে হয়। জোড়ার তার দুটির এক একটির পুরুত্ব হয় ৪ মিঃ মিঃ থেকে ০.৯ মিঃ মিঃ।

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Twisted pair cable):
Photo: টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Twisted pair cable):

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের সুবিধা:

  1. ইহা দামে খুবই সস্তা।
  2. অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় ডেটা ট্রান্সমিট করতে পারে।
  3. এটি সিস্টেমে ইনস্টল করাও সহজ

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের অসুবিধা:

  1. এ ধরনের ক্যাবল ব্যবহার করা হয় সাধারণত ১০০ মিঃ এর দূরত্বের মধ্যে কোন তথ্য প্রেরণের জন্য।
  2. ডেটা ট্রান্সফারের দূরত্ব বাড়তে থাকলে তথ্য ট্রান্সফারের হার কমতে থাকে।
  3. এ ধরনের ক্যাবলের ট্রান্সমিশন লস অনেক বেশি।

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের ব্যবহার:

যোগাযোগ ক্যাবল হিসেবে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন:

  1. টেলিফোন লাইনে এই তার ব্যবহৃত হয়।
  2. ডিজিটাল সিগনালিং ও LAN এর ক্ষেত্রে এ ধরনের ক্যাবল ব্যবহৃত হয়। LAN -এর ক্ষেত্রে ডেটা ট্রান্সমিশন রেট 10 Mbps থেকে 1 Gbps.

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল কয় প্রকার?

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল দুই প্রকার। যথাঃ

  1. আবরণহীন টুইস্টেড পেয়ার বা ইউটিপি (UTP-Unshielded Twisted pair)
  2. আবরণযুক্ত টুইস্টেড পেয়ার বা এসটিপি (STP-Shielded Twisted pair)

ইউটিপি ক্যাবল কি ( What is UTP cable):

ইউটিপি ক্যাবল কি ( What is UTP cable):
ইউটিপি ক্যাবল এর ছবি
ইউটিপি ক্যাবল এর ছবি

ইউটিপি ক্যাবল মূলতঃ একাধিক জোড়া টুইস্টেড পেয়ারের সমষ্টি যা আবার প্লাস্টিক আবরণে মোড়ানো থাকে। তারের মধ্যে দিয়ে যখন সিগন্যাল অতিক্রম করতে থাকে তখন এর শক্তি বা মান ক্রমান্বয়ে লোপ পেতে থাকে। এই ধরনের, ক্যাবলের ডেটা ট্রান্সফার রেট 10 Mbps থেকে 1 Gbps পর্যন্ত হয়ে থাকে। ইউটিপি ক্যাবলের দূরত ১০০ মিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

এসটিপি ক্যাবল কি ( What is STP cable):

এসটিপি ক্যাবলের বাইরে জ্যাকেট বা কেসিং থাকে এবং তারের মধ্যে একটি শিল্ড ( শক্ত আবরণ থাকে। এই ধরনের ক্যাবল মোটা ও শক্ত হওয়ায় মুভিং করা অসুবিধাজনক। এসটিপি কাছে যিনা ট্রান্সফার রেট প্রায় 16 Mbps থেকে 500 Mbps.

আনশিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ার ও শিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ারের মধ্যে পার্থক্য:

আনশিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলশিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল
১। আনশিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল এ মূলতঃ ক্যাবল এর সাথে প্লাস্টিক আবরণ ব্যবহার করা হয়।১। শিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল এ মূলতঃ এর সাথে প্লাস্টিক আবরণ ও এক ধরনের মেটা ব্যবহার করা হয়। ক্যাবল এর সাথে প্লাস্টিক আবরণ ব্যবহার করা হয়।
২। এই ধরনের ক্যাবল দামে তুলনামুলকভাবে সন্তা।২। এই ধরনের ক্যাবল দাম আনশিল্ডেড পেয়ার এর চেয়ে বেশি।
৩। অপেক্ষাকৃত কম স্থায়িত্ব সম্পন্ন।৩। অপেক্ষাকৃত কম স্থায়িত্ব সম্পন্ন।
৪। এই ধরনের ক্যাবলে সাধারণত স্টার টপোলজি ব্যবহৃত হয়।৪। এই ধরনের ক্যাবলে সাধারণত রিং টপে ব্যবহৃত হয়।
৫। রেডিও এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্টারফিয়ারেন্স পরিবেশে উপযোগি নয়।৫। রেডিও এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্টারফিয়ারেন্স কি উপযোগি।
আনশিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ার ও শিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ারের মধ্যে পার্থক্য:

2. কো-এক্সিয়াল ক্যাবল (Coaxial cable):

কো-এক্সিয়াল ক্যাবল সাধারণত কোএক্স (Coax) নামে পরিচিত। কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দুটি সুপরিবাহী বা (Conductor) ও দুটি অপরিবাহী বা পরা বৈদ্যুতিক পদার্থের সাহায্যে তৈরি করা হয়। কো-এক্স ক্যাবলের কেন্দ্র অতিক্রম করে একটি সলিড (Solid) কপার তার। কেন্দ্রের পরিবাহী তার আচ্ছাদিত করার জন্য ও বাইরের ও থেকে পৃথক রাখার জন্য এদের মাঝখানে অপরিবাহী পদার্থ থাকে। বাইরের পরিবাহককে প্লাস্টিক জ্যাকেট দ্বার রাখা হয়।

কো-এক্সিয়াল ক্যাবল (Coaxial cable):   Photo
চিত্রঃ কো-এক্সিয়াল ক্যাবল

কো-এক্সিয়াল ক্যাবল এ ধরনের ক্যাবলের ডেটা স্থানান্তরের গতি বেশি হয়। তবে ডেটা টান্সফার রেট নির্ভর করে তারের দৈর্ঘ্যের কো-এক্সিয়াল ক্যাবল ব্যবহার করে এক কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে ডিজিটাল ডেটা প্রেরণ করা যায়। এক্ষেত্রে ট্রান্সমিশন রেট সর্বোচ্চ 200 Mbps পর্যন্ত হতে পারে। এ ধরনের ক্যাবলের ট্রান্সমিশন লস অপেক্ষাকৃত কম ।

কো-এক্সিয়াল ক্যাবল কত প্রকার?

কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দু-প্রকার। যথাঃ-

  1. থিননেট (Thinnet) ও
  2. থিকনেট (Thicknet)

থিকনেট (Thicknet):

থিননেট হল হালকা ও ফ্লেক্সিবল ক্যাবলিং মিডিয়া। ইহা 10 base 2 নামেও পরিচিত। । যেখানে 10 হলো ব্যান্ডউইথ (10 Mbps) এবং ২ হলো ক্যাবলের দৈর্ঘ্য (২০০ মিটার)। এই ধরনের ক্যাবলের সাহায্যে রিপিটার ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৮৫ মিটার পর্যন্ত ডেটা পাঠানো যায়। এই ধরনের মিডিয়া সহজে ইনস্টল করা যায় এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল। এর ব্যাস ০.২৫ ইঞ্চি।

থিকনেট (Thicknet):

থিকনেট হল ভারী ও নন ফ্লেক্সিবল মিডিয়া। ইহা 10 base S নামেও পরিচিত। যেখানে
10 হলো ব্যান্ডউইথ (10 Mbps) এবং 5 হলো ক্যাবলের দৈর্ঘ্য (500 মিটার)। এই ধরনের ক্যাবল রিপিটার ছাড়াই
সর্বোচ্চ ৫০০ মিটার পর্যন্ত ডেটা ট্রান্সমিট করতে পারে এবং ডেটা ট্রান্সমিট স্পীড 100 Mbps হতে 2 Gbps পর্যন্ত
হতে পারে। এই ধরনের ক্যাবল সহজে বাঁকানো যায় না। বিল্ডিং থেকে বিল্ডিং এ সংযোগের জন্য এ ধরনের ক্যাবল
বেশ জনপ্রিয়। এর ব্যাস ০.৪০ ইঞ্চি।

কো-এক্সিয়াল ক্যাবল এর সুবিধাসমূহঃ

  • সহজে ব্যবহারযোগ্য
  • সহজে স্থাপনযোগ্য।
  • ট্রান্সমিশন লস অপেক্ষাকৃত কম।
  • অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় ডেটা ট্রান্সমিশনে ব্যবহার করা যায়।
  • ইন্সটলেশন খরচ কম।
  • ফাইবার অপটিক ক্যাবলের তুলনায় দাম কম।
  • টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের তুলনায় অধিক দূরত্বে ডেটা পাঠানো যায়।

কো-এক্সিয়াল ক্যাবল এর অসুবিধাসমূহঃ

  • টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের তুলনায় কিছুটা ব্যয়বহুল।
  • ডেটা ট্রান্সমিশনের গভি ক্যাবলের দৈর্ঘ্যর উপর নির্ভর করে
  • সাধারণত রিপিটার ছাড়া এক কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ডেটা পাঠানো যায় না।

3. অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল বা ফাইবার অপটিক ক্যাবল (Optical Fiber Cable):

অপটিক্যাল ফাইবার হলো ডাই-ইলেক্ট্রটিক পদার্থ যেমন সিলিকা দ্বারা তৈরী বিশেষ ধরণের তার যার সাহায্যে অতিদ্রুত একস্থান থেকে অন্যস্থানে ডেটার আদান প্রদান করা যায়। অপটিক্যাল ফাইবারের মধ্যে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোর গতিতে ডেটার আদান প্রদান হয়।

অপটিক্যাল ফাইবারে ইলেক্ট্রিক সংকেত আলোক সংকেতে পরিবর্তিত হয়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে স্থানান্তরিত হয়। এই ধরনের ক্যাবলের মধ্য দিয়ে উপাত্ত স্থানান্তরের ক্ষেত্রে লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়। অনেক বেশী ডেটা অতি দ্রুত একস্থান থেকে অন্যস্থানে আদান প্রদানে অপটিক্যাল ফাইবার অপ্রতিদ্বন্দি। যেমন- টেলিভিশন, ইন্টারনেট ইত্যাদি।

সাধারণত অপটিক্যাল ফাইবারের তিনটি থাকে। যথা:-

  1. কোর (Core)
  2. ক্ল্যাডিং (Cladding) ও
  3. জ্যাকেট (Jacket)
সাধারণত অপটিক্যাল ফাইবারের তিনটি থাকে।: Core, Cladding, Jacket
Core, Cladding, Jacket

কোর (Core) :

অপটিক্যাল ফাইবারের সবচেয়ে ভেতরের অংশের নাম হল কোর যা অতি স্বচ্ছ বিশেষ ধরনের কাঁচ দিয়ে তৈরি। যার ব্যাস সাধারণত ৮ থেকে ১০০ মাইক্রোন হয়ে থাকে। এটি আলোক সিগন্যালকে প্রতিফলনের মাধ্যমে সঞ্চালিত করে। ১ মাইক্রোমিটার বা মাইক্রন = ১০ মিটার।

ক্ল্যাডিং (Cladding):

কোরকে আবদ্ধ করে রাখার জন্য যে ডাই-ইলেকট্রিক ব্যবহার করা হয় তাকে এটি কাঁচ বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এর প্রতিসরাংক কোরের চেয়ে কম। ক্ল্যাডিং এর ব্যাস ১২৫ মাইক্রোমিটার।

জ্যাকেট (Jacket):

অপটিক্যাল ফাইবারের সবচেয়ে বাইরের অংশের নাম হল জ্যাকেট । যা সাধারণ টাইপের হয়ে থাকে। এই ফাইবারকে পানি, জলীয় বাষ্প, আর্দ্রতা, বাহিরের আঘাত এবং অন্যান্য দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করে।

অপটিক্যাল ফাইবারের গঠন উপাদানঃ

অপটিক্যাল ফাইবার তৈরির প্রধান উপাদান হলো বালি বা সিলিকন এবং মাল্টি কম্পোনেট কাঁচ এসবগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ হলোঃ

  1. অতি স্বচ্ছতা।
  2. রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা
  3. শক্তি অপচয় কম।
  4. সহজে পরিবহনযোগ্য
  5. হলো বালি বা সিলিকন এবং মাল্টি কম্পোনেন্ট কাঁচ। এসব ও
  6. দ্রুত ডেটা আদান প্রদান ক্ষমতা ইত্যাদি।

অবশ্য অপটিক্যাল ফাইবার তৈরির জন্য সোডা বোরো সিলিকেট, সোডালাইম সিলিকেট, সোডা অ্যালুমিনাি ইত্যাদি মাল্টিকম্পোনেন্ট কাঁচগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়। অনেক ক্ষেত্রে ক্ল্যাডিং তৈরির জন্য প্লাস্টিক ব্যবহার করা। তবে সাধারণ কাঁচের মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয় না বিধায় অপটিক্যাল ফাইবার তৈরিতে বিশেষ ধরনের কাঁচ।
মাল্টিকম্পোনেন্ট কাঁচ ব্যবহৃত হয়।

অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা বা বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

অপটিক্যাল ফাইবারের উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো বা বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ-

  1. ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ডেটা স্থানান্তরের গতি অন্যান্য ক্যাবলের চেয়ে অনেক বেশি।
  2. ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ওজন কম।
  3. বিদ্যুৎ চৌম্বক প্রভাব হতে মুক্ত।
  4. শক্তির ক্ষয় অন্যান্য ক্যাবলের তুলনায় কম।
  5. নির্ভুলভাবে ডেটা স্থাস্তারিত হয়।
  6. ডেটা সংরক্ষণের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা অন্যান্য ক্যাবলের তুলনায় অনেক বেশি।
  7. পরিবেশের চাপ, তাপ ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে উপাত্ত স্থানান্তর এর ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে না।

অপটিক্যাল ফাইবারের অসুবিধাসমূহ:

  1. ফাইবার অপটিক ক্যাবল অত্যন্ত দামী।
  2. ফাইবার অপটিক ক্যাবলকে ইউ আকারে বাঁকানো যায় না। আর বাঁকানো হলে ভেতরের কাঁচ বা ভেঙ্গে যেতে পারে।
  3. ফাইবার অপটিক ক্যাবল ইনস্টল করা অন্যান্য ক্যাবলের তুলনায় অনেক ঝামেলাপূর্ণ।
  4. অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন জনবল দরকার।

অপটিক্যাল ফাইবার বা ফাইবার অপটিক ক্যাবল এর প্রকারভেদ :

গঠনগত এবং প্রতিসরাংকের উপর ভিত্তি করে অপটিক্যাল ফাইবারকে (৩) তিন ভাগে ভাগ করা যায়।যথাঃ

  1. স্টেপ ইন্ডেক্স ফাইবার (Step Index fibre)
  2. গ্রেডেড ইন্ডেক্স ফাইবার (Graded Index fibre) ও
  3. মনোমোড ফাইবার (Monomode fibre)
স্টেপ ইন্ডেক্স ফাইবার (Step Index fibre):

এ ধরনের ফাইবারের সর্বত্র কোরের প্রতিসরাংক সমান থাকে। কোরের ব্যাস ৫০ মাইক্রোমিটার থেকে ২ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়।

গ্রেডেড ইন্ডেক্স ফাইবার (Graded Index fibre):

থ্রেডেড ইন্ডেক্স ফাইবারের কোরের প্রতিসরাংক কেন্দ্রে সবচেয়ে । বেশি এবং ব্যাসার্ধ বরাবর কমতে থাকে। এ ধরনের ফাইবারের ব্যাস ৫০ মাইক্রোমিটার থেকে ৬৫.২ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়।

মনোমোড ফাইবার (Monomode fibre) :

এই ধরনের ফাইবারের কোরের ব্যাস বা ডায়ামিটার সবচেয়ে কম থাকে। ফলে ওয়েভ লেনথকে কমানো যায়। এর ব্যাস বা ডায়ামিটার মাত্র ৪.৫ মাইক্রোমিটার।

আবার কোরের ব্যাস অনুযায়ী ফাইবার অপটিককে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১। মাল্টিমোড ফাইবার (Multi Mode fibre) : এই ধরনের ফাইবারের কোরের ব্যাস ৬২.৫ বা ১২৫ মাইক্রোন হয়ে থাকে। ইহা একসাথে একাধিক ডেটা বা সিগন্যাল ট্রান্সমিশনের জন্য ব্যবহৃত হয়। অবশ্য এর মধ্যে দিয়ে একই সাথে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোকরশ্মি পাঠানো যায়।

২। সিঙ্গেল মোড ফাইবার (Single mode fibre): এই ধরনের ফাইবারের কোরের ব্যাস ৮ বা ১২৫ মাইক্রোন হয়ে থাকে। ইহা শুধুমাত্র সিঙ্গেল ট্রান্সমিশনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগ ব্যবস্থা (Optical Fiber Communication System)

অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগ ব্যবস্থা মূলতঃ অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগ ব্যবস্থা গঠিত হয় ট্রান্সমিটার, মাধ্যম এবং রিসিভার এই তিনটির সমন্বয়ে। প্রেরকযন্ত্র বা ট্রান্সমিটারে মডুলেটর এবং LASER বা LED (Light Emitting Diode) থাকে। LASER বা LED এই আলোর উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রেরকযন্ত্র বা ট্রান্সমিটার অ্যানালগ বা ডিজিটাল ডেটা বা সংকেতকে মডুলেশনের মাধ্যমে অপটিক্যাল ফাইবারের উপযোগী আলোক তরঙ্গ তৈরি করে। এই আলোক তরঙ্গ বা আলোক রশ্মি অপটিক্যাল ফাইবারের মধ্য দিয়ে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে রিসিভাবে পৌঁছে।

রিসিভারে অন্তর্ভুক্ত ফটো ডিটেক্টর ও প্রসেসিং ইউনিট আলোক তরঙ্গ বা আলোক রশ্মিকে অ্যামপ্লিফিকেশন, ফিল্টারিং এবং ডি মডুলেশনের মাধ্যমে কাঙ্খিত ডেটায় রূপান্তরিত বা পরিণত করে। আর এভাবেই ফাইবার অপটিক্যালের মধ্য দিয়ে ডেটা প্রবাহিত হয়।

অপটিক্যাল ফাইবারে ডেটা সঞ্চালন সিস্টেম
Photo: অপটিক্যাল ফাইবারে ডেটা সঞ্চালন সিস্টেম

আরও আইসিটি/ টেকনোলজি বিষয়ক ইনফরমেটিভ পোস্ট পেতে আমাদের সাথে ফেইসবুকে যুক্ত থাকুন।

অন্যান্য IT Post দেখুন;

About ibangla24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *