হটস্পট (Hotspot), বুটুথ (Bluetooth), ওয়াই-ফাই (Wi-Fi), ওয়াইম্যাক্স (WiMax) নিয়ে বিস্তারিত।

হটস্পট (Hotspot), ব্লুটুথ (Bluetooth), ওয়াই-ফাই (Wi-Fi), ওয়াইম্যাক্স (WiMax) নিয়ে বিস্তারিত।

বর্তমানে ইন্টারনেট প্রযুক্তির যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দ্রুততর ও সহজতর করতে যেসকল মাধ্যম অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে অর্থাৎ ওয়্যারলেস ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পয়েন্ট (Wireless Internet Access Point): হটস্পট (Hotspot), ব্লুটুথ (Bluetooth), ওয়াই-ফাই (Wi-Fi), ওয়াইম্যাক্স (WiMax) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব এই পোস্টে।

ওয়্যারলেস ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পয়েন্ট (Wireless Internet Access Point):

WAP – ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং এর ক্ষেত্রে যে সীমার বা রেঞ্জের ভিতর পয়েন্টে নেটওয়ার্ক অ্যাকসেস করা যায় তাকে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট অ্যাকসেস পয়েন্ট বলে।

ওয়্যারলেস ইন্টারনেট অ্যাকসেস পয়েন্ট ব্যবহার করে নোটবুক দিন। ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন, পিডিএ, ট্যাব ইত্যাদিতে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া যায়।

ওয়্যারলেস ইন্টারনেট অ্যাকসেস পয়েন্ট প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথাঃ-

  • হটস্পট (Hotspot) এবং
  • মোবাইল নেটওয়ার্ক (Mobile Network) ।

হটস্পট (Hotspot):

হটস্পট হলো এক ধরনের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক যা অ্যাকসেস পয়েন্ট দ্বারা মোবাইল-ফোন, কম্পিউটার ও বিভিন্ন ডিভাইস যেমন-নোটবুক, ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন, পিডিএ, ট্যাব ইত্যাদিতে নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে থাকে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তিনটি হটস্পট প্রযুক্তি হল-

  1. ব্লুটুথ (Bluetooth)
  2. ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ও
  3. ওয়াইম্যাক্স (WiMax)।

1. বুটুথ (Bluetooth):

১৯৯৪ সালে টেলিকম কোম্পানি এরিকসন ব্লুটুথ (Bluetooth) উদ্ভাবন করেন। কিং হেরাল্ড ব্লুটুথ (King Herald Bluetooth), যিনি দশম শতকে ডেনমার্ক ও নরওয়েকে একত্র করেছিলেন, তার নামে এই প্রযুক্তি নামকরণ করা হয় ব্লুটুথ (Bluetooth) যা একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন যন্ত্রের মধ্যে সংযোগ সাধন করে।

ব্লুটুথ হলো এক ধরনের Wireless LAN টেকনোলজি যা বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে ডেটা আদান প্রদানে সহায়তা করে। ব্লুটুথ সাধারণত এক সাথে ৮ টি ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। তবে প্রত্যেকটি ডিভাইসকে সাধারণত ১০ মিটার ব্যাসার্ধের একই বৃত্তের মধ্যে অবস্থিত হতে হয়।

ব্লটুথ কমিউনিকেশন সিস্টেম.। ওয়্যারলেস ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পয়েন্ট (Wireless Internet Access Point):
Photo: একটি ব্লটুথ কমিউনিকেশন সিস্টেম

বর্তমানে ব্লুটুথের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদানে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোর দূরত্ব ১০ মিটার হতে ১০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। বিভিন্ন ডিভাইসে USB পোর্টের মাধ্যমে ব্লটুথ সংযোগ দেয়া যায় ব্লুটুথ । ব্লুটুথ মোবাইলফোন, পিডিএ, ল্যাপটপ, মডেম, ফ্যাক্স, প্রিন্টার, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলফোন, পিডিএ, ল্যাপটপ, মডেম প্রভৃতি ডিভাইসের সাথে এই টেকনোলজি বিল্ড-ইন থাকে।

ব্লুটুথ এর কাজ কি / ব্লুটুথ এর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপঃ

  • ব্লটুথ সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ ফ্রিকুয়েন্সিতে কাজ করে।
  • সাধারণত ১০ মিটার হতে ১০০ মিটার পর্যন্ত অবস্থিত ডিভাইসগুলোর মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করতে পারে।
  • ব্লুটুথ সাধারণত মোবাইলফোন, পিডিএ, ল্যাপটপ, মডেম, ফ্যাক্স, প্রিন্টার, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হয়।
  • ব্লুটুথ এক সাথে ৮ টি ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।
  • ব্লুটুথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনফিগার করতে পারে।

বর্তমানে বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় ডেটা কমিউনিকেশন প্রোটোকল। এর ডেটা ট্রান্সফার রেট ১ মেগাবিট/সেকেন্ড বা তার চেয়ে বেশি। ব্লুটুথ এর অনেক ভার্সন বের হয়েছে। বর্তমানে Bluetooth ভার্সন ৪.০ বিদ্যমান এবং জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Bluetooth VersionData Rate
1.2 1Mbps
12.0+EDR3Mbps
3.0+HS3Mbps
4.026Mbps
ব্লুটুথ ভার্সন ও ডাটা রেট

2.ওয়াই-ফাই (Wi-Fi):

WI-FI এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Hi-Fi মানে High Fidelity হলেও Wi-Fi মানে কিন্তু Wireless Fidelity নয়, যদিও অনেকে তাই ধারণা করে থাকেন। Wi-Fi এর অপর নাম হচ্ছে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট এক্সেস।

অর্থাৎ Wi-Fi হলো তারবিহীন এক ধরনের প্রযুক্তি যা রেডিও ওয়েব ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। এই ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ই-বিশ্ব পর্যায়ে মানুষকে যোগাচ্ছে ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস সার্ভিস। তবে Wi-Fi এ ২.৪ গিগাহার্টজ (GH.) ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করা হয়।

WI-FI এর স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে IEEE 802.11 অর্থাৎ (Institute of Electrical and Electronics Engineers) । তবে IEEE 802.11 হচ্ছে একটি ওয়্যারলেস বা তারবিহীন LAN স্ট্যান্ডার্ড | একটি ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে দশটি বা তার অধিক কম্পিউটার সংযুক্ত করতে পারে সাধারণত সকল নোটবুক, ল্যাপটপ, পেরিফেরাল ডিভাইস, প্রিন্টার, স্মার্ট ফোন, এমপি থ্রী প্লেয়ার, ভিডিও গেইম কনসোল এবং ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায়।

আবিষ্কারের সময়কালঃ ১৯৯১ সালে নেদারল্যান্ডস-এর NCR Corporation আবিষ্কৃত এক ধরনের তারবিহীন নেটওয়ার্ককে আজকের Wi-Fi টেকনোলজির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) এর কভারেজ এরিয়া একটি কক্ষ, একটি ভবন কিংবা কয়েক কিলোমিটার এলাকা বড়ে হয়ে থাকে।

সাধারণত ইনডোরের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব ৩২ মিটার এবং আউটডোরের ক্ষেত্রে ৯৫ মিটার এর মত হয়ে থাকে। তবে আউটডোরের ক্ষেত্রে একাধিক একসেস পয়েন্ট ব্যবহার করে এই কভারেজ আরো বৃদ্ধি করা যায়। Wi-Fi এর ডেটা ট্রান্সফার রেট 10 Mbps থেকে 50 Mbps পর্যন্ত হয়ে থাকে।

Wi-Fi ডিভাইস -রাউটার/ Router
Photo: a wi-fi device

ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • এটি IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ডের ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক।
  • নেটওয়ার্কের জন্য কোন প্রকার ক্যাবল বা তারের প্রয়োজন হয় না।
  • কভারেজ এরিয়া ইনডোরের ক্ষেত্রে দূরত্ব ৩২ মিটার এবং আউটডোরের ক্ষেত্রে ৯৫ মিটার এর মত হয়ে থাকে।
  • নেটওয়্যার্কে সহজে নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত করে নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়ানো যায়।
  • হাফ ডুপ্লেক্সিং মোড ব্যবহৃত হয়।
  • বাধামুক্ত সিগন্যাল ট্রান্সফারের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনক্রিপশন সুবিধা আছে।
  • মিডিয়া অ্যাক্সেস কন্ট্রোলের জন্য CSMA/CA ( Carrier Sense Multiple Access with (Avoidance) প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।

ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) এর সুবিধাসমূহঃ

  1. ওয়াই-ফাই এর কনফিগারে খরচ তুলনামূলকভাবে কম।
  2. কোন লাইসেন্স বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
  3. ক্যাবল ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার ও অধিক প্রয়োজন।
  4. দ্রুত গতির ইন্টারনেট ও অধিক নিরাপদ ব্যবস্থা।
  5. শতাধিক ব্যবহারকারী একক বেজ স্টেশন ব্যবহার করতে পারে।
  6. সহজে নতুন ব্যবহারকারী নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে।
  7. একাধিক এক্সেস পয়েন্টের জন্য নেটওয়ার্ক রোমিং সুবিধা আছে।
  8. ওয়াই-ফাই এর পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম।
  9. একই সাথে মাল্টিফাংশনালি সুবিধা পাওয়া যায়।

ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) এর অসুবিধা:

  1. ওয়াই-ফাই এর সীমানা নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
  2. দূরত্ব বেশি হলে একাধিক বেজ স্টেশনের প্রয়োজন হয়।
  3. রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। ৪. বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি।। ৫. নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ব্যান্ডউইথ কমে যায়। ৬. ঝড় বৃষ্টিতে সিগন্যালের সমস্যা দেখা দেয়।

বুটুথ ও ওয়াই-ফাই এর মধ্যে পার্থক্য :

ব্লুটুথ (Bluetooth)ওয়াই-ফাই (Wi-Fi)
১। ব্লুটুথ হলো এক ধরনের Wireless LAN টেকনোলজি যা বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে ডেটা আদান প্রদানে সহায়তা করে।১। ওয়াই-ফাই হলো ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক। এটি এমন এক ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা যার মাধ্যমে অল্প পরিসর এলাকায় ওয়্যারলেস তথা তারবিহীন স্থাপন করা যায়। করে।
২। ব্লুটুথ স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ২। ওয়াই-ফাই অধিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।
৩। ব্লুটুথ এর ব্যান্ডইউথ কম।৩। ওয়াই-ফাই এর বান্ডউইড্থ বেশি ।
৪। এটি স্বল্প নিরাপদ।৪। এটি অধিক নিরাপদ।
৫। ব্লুটুথ এক সাথে ৮ টি ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। ৫। ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে দশটি বা তার ও কম্পিউটার সংযুক্ত করতে পারে।
৬। ব্লটুথ প্রযুক্তি বিভিন্ন ডিভাইসে বিল্ড ইন আকারে থাকে। ৬। ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি বিভিন্ন ডিভাইসে বিল্ড ইন হয় থাকে না।
Difference between Bluetooth and Wi-fi

৩. ওয়াইম্যাক্স (WiMax):

WiMAX এর পূর্ণরূপ হলো World Wide Interoperability for Microwave Access । বহনযোগ্য কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার সুবিধাকে ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি বলে । সহজ কথায় ওয়াইম্যাক্স একটি তার বিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রযুক্তি।

এটি IEEE 803.16 স্ট্যান্ডার্ডের ওয়্যারলেস মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক। ওয়াইম্যাক্স প্রতি সেকেন্ডে ৩০ থেকে ৭০ মেগাবিট ডেটা প্রেরণ করতে পারে। এমনটি ১ গিগাবিট তথ্যও প্রেরণ করা যায়।

ওয়াইম্যাক্স (WiMax
Example of WiMAX Network

আবিষ্কারের সময়কালঃ ২০০১ সালের এপ্রিলে ওয়াইম্যাক্সের জন্ম হয়।বিভিন্ন প্রকার ইন্টারনেট সেবার মধ্যে স্বল্প ব্যয়ে সীমিত আয়তনের এলাকায় ওয়াই-ম্যাক্স একটি সহজ ও সুবিধাজনক প্রযুক্তি। একটি মাত্র বেস স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত এটা কার্যকর।

এটি ওয়্যারলেস মেট্রোপলিটন নেটওয়ার্ক (MAN) এর মত এবং এর গতি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মতই গতিসম্পন্ন অথচ ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। ওয়াইম্যাক্স দিয়ে পুরো একটি শহরের নেটওয়ার্ক বিস্তার করা যায়। কেউ যদি তার বিহীন একটি উচ্চ গতির নেটওয়ার্ক করতে চান তা হলে ওয়াইম্যাক্সকে ব্যবহার করা যাবে তার ভিত্তি হিসেবে।

ল্যান্ড টেলিফোন, ক্যাবল বা স্যাটেলাইট টিভির বাইপাস লাইন হিসেবেও ওয়াইম্যাক্স ব্যবহৃত হয়। এটি একই সাথে দ্রুত গতির ইন্টারনেট, টেলিফোন সার্ভিস, ডেটা ও ভয়েস ট্রান্সফারিং, ভিডিও ট্রান্সফারিং প্রভৃতি মাল্টিফাংশনালি সুবিধা প্রদান করে।

ওয়াইম্যাক্স (WiMAX) এর বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

  • এটি IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ডের ওয়্যারলেস মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক।
  • কভারেজ এরিয়া ১০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
  • সাধারণত নেটওয়ার্কের জন্য কোন প্রকার ক্যাবল বা তারের প্রয়োজন হয় না। অবশ্য ওয়্যারড সিস্টেমও বিদ্যমান আছে।
  • নেটওয়্যার্কে সহজে নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত করে নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়ানো যায়।
  • ফুল ডুপ্লেক্সিং মোড ব্যবহৃত হয়।
  • বাধামুক্ত সিগন্যাল ট্রান্সফারের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনক্রিপশন সুবিধা আছে।
  • ফ্রিকুয়েন্সি ব্যান্ড লাইসেন্স বা লাইসেন্সবিহীন হতে পারে।
  • ওয়াইম্যাক্স কানেকশন ওরিয়েন্টেড MAC প্রটোকল ব্যবহার করে।

ওয়াইম্যাক্স (WIMAX) এর সুবিধাসমূহঃ

  1. অধিক নিরাপদ ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা।
  2. তারের নেটওয়ার্কে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হবার পর তা মেরামতের প্রয়োজন হয় কিন্তু ওয়াইম্যাক্সে সে ঝামেলা নেই।
  3. যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও এখানে বিনিয়োগ এককালীন। সে দিক দিয়ে খরচ অনেক কম।
  4. Wi-Max এর যোগাযোগের আওতা অনেক বেশি হওয়ায় (১০ থেকে ৬০ কিলোমিটার) পথে-ঘাটে যে-কোনো জায়গা থেকেই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব।
  5. ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল বা ভিওআইপি (VOIP) ব্যবহার করে যোগাযোগ হয় আর ও সহজে।
  6. শতাধিক ব্যবহারকারী একক বেজ স্টেশন ব্যবহার করতে পারে।
  7. কোয়ালিটি অব সার্ভিসের নিশ্চয়তা প্রদান করে।
  8. একই সাথে মাল্টিফাংশনালি সুবিধা পাওয়া যায়।

ওয়াইম্যাক্স (WIMAX) এর অসুবিধাসমূহঃ

  1. অধিক ব্যয়বহুল।
  2. দূরত্ব বেশি হলে একাধিক বেজ স্টেশনের প্রয়োজন হয়।
  3. রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি।
  4. ঝড় বৃষ্টিতে সিগন্যালের সমস্যা দেখা দেয়।
  5. বিদ্যুৎ খরচ অন্যান্য স্ট্যান্ডার্ড এর তুলনায় বেশি।
  6. নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ব্যান্ডউইথ কমে যায়।
  7. অন্যান্য ডিভাইস কর্তৃক সিগন্যাল জ্যামের সৃষ্টি হয়।

ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ও ওয়াইম্যাক্স (WiMAX) এর মধ্যে পার্থক্য :

ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ওয়াইম্যাক্স (WiMAX)
(১) Wi-Fi এর পূর্ণরূপ হচ্ছে High Fidelity.(১) WIMAX এর পূর্ণরূপ হল World Wide Interoperability for Microwave Access.
(২) এটি IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ডের ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক।(২) এটি IEEE 803.16 স্ট্যান্ডার্ডের ওয়্যারলেস মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক।
(৩) ওয়াই-ফাই এর কভারেজ এরিয়া খুবই সীমিত।(৩) ওয়াইম্যাক্স এর কভারেজ এরিয়া ১০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
(৪) হাফ ডুপ্লেক্সিং মোড ব্যবহৃত হয়।(৪) ফুল ডুপ্লেক্সিং মোড ব্যবহৃত হয়।
(৫) ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের খরচ তুলনামূলকভাবে কম।(৫) ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্কের খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি।
(৬) ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের গতি তুলনামূলকভাবে কম।(৬) ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্কের গতি তুলনামূলকভাবে বেশি।
Defference betweet Wi-fi and WiMAX

সকল প্রযুক্তি বিষয়ক পোস্ট দেখুন; 

Go To Home:

About ibangla24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *